সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০২:০০ পিএম
শনিবার ০৯, মে ২০২৬ -- : -- --
টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্টে ১০০ ইনোভেশন মাস্টারমাইন্ড। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত ১০০ শিক্ষার্থীকে ‘ইনোভেশন মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট সিজন ১০’-এর ন্যাশনাল ডে কনফারেন্সে তাঁদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব নবী খান। সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতে টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে নতুন প্রযুক্তি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকল্প নেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা বাড়াতে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বহুভাষা শেখার প্রতি উৎসাহিত করেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব নবী খান বলেন, ভবিষ্যতের টেক্সটাইল শিল্পে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, প্রযুক্তি ও ইনোভেশনের সমন্বয়ই একজন দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ভাষা শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রো টেক্স লিমিটেডের হেড অব হিউম্যান রিসোর্স সাইয়েদুল হাসান, কোটস বাংলাদেশ লিমিটেডের টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ম্যানেজার আদনান মাহমুদ, ট্রান্সফার কেমিক্যালসের ডিরেক্টর (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) মো. আমিনুল ইসলাম, অ্যাপনা অর্গানিকস প্রাইভেট লিমিটেডের বাংলাদেশ লিয়াজোঁ অফিসের কান্ট্রি হেড সন্দীপ দাভে এবং সামিট ডাই-কেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল রিজভী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক আমিন।
দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল ‘ইন্ট্রোডাকশন টু ইনোভেশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ, অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা, অতিথিদের আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আয়োজকেরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কুইজ মূল্যায়ন ও আগে জমা দেওয়া ভিডিও উপস্থাপনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত বাছাইপর্বে অংশ নেন। পরবর্তী ধাপে তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা তুলে ধরে ভিডিও উপস্থাপন করতে হয়। ন্যাশনাল ডে কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং টেক্সটাইল খাতসংশ্লিষ্ট জ্ঞান যাচাই করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এবারের আয়োজনের স্পন্সর ও পার্টনার হিসেবে ছিল সেন্ট্রো টেক্স, আর্করোমা, ডাইসিন গ্রুপ, কটন ইউএসএ, ট্রান্সফার কেমিক্যালস, কোটস, অ্যাপনা অর্গানিকস, এসজিএস ও পিওর কেমিক্যালসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পুরো আয়োজন পরিচালনা করে টেক্সটাইল টুডে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিটি জোন থেকে নির্বাচিত সেরা তিনজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, গত এক দশক ধরে টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।