প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
আব্দুল্লাহ আল মামুন: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর স্বভাবতই স্বপ্ন থাকে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার। কঠোর পরিশ্রমের পর অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। এই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে একজন শিক্ষার্থীকে অনেক দূরে পাড়ি দিতে হয়। যেমন অনেক শিক্ষার্থীর বাসা উত্তরবঙ্গে হলেও দক্ষিণবঙ্গের কোনো ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেলে দক্ষিণবঙ্গে চলে আসতে হয়। আবার দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষার্থীদের যেতে হয় উত্তরবঙ্গে। স্বভাবতই তখন একজন নবীন শিক্ষার্থীকে সম্মুখীন হতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার। নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া, একাকিত্ব, নতুন সার্কেল তৈরি করা, নতুন বাসা ভাড়া নেওয়াসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এমন মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলা কিংবা বিভাগীয় ছাত্রকল্যাণ সমিতিগুলো একজন নবীন শিক্ষার্থীর জন্য আশীর্বাদরূপে আবিভূত হয়। জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাই কিংবা আপুরা নবীন শিক্ষার্থীকে বাসা খুঁজে দেওয়া, নতুন পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, অসুস্থ হলে পাশে থাকাসহ নানাবিধ সহায়তা করে থাকে। এমন মুহূর্তে একজন নবীন শিক্ষার্থী মানসিক সাপোর্ট পেয়ে থাকে জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ভাই কিংবা আপুদের কাছ থেকে।
এছাড়াও জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলো শুধু সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও প্রাণকেন্দ্র। বিভিন্ন উৎসব, পিকনিক, মিলনমেলা, ইফতার মাহফিল কিংবা জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। এসব আয়োজন শুধু আনন্দই দেয় না, বরং একই শিকড় থেকে উঠে আসা মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে।
এই জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলো শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগায়। দূরে থাকা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা—এসব কারণে অনেকেই একাকিত্বে ভোগে। তখন নিজের জেলার মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। তারা যেন হয়ে ওঠে আরেকটি পরিবার, যেখানে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করা যায় নির্দ্বিধায়।
তবে সবকিছুর পাশাপাশি একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—এই ভ্রাতৃত্ববোধ যেন কখনো গোষ্ঠীবাদ বা বিভাজনের কারণ না হয়। জেলা পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবাইকে সমানভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বৈচিত্র্যের মিলনস্থল, যেখানে সকল পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
সবশেষে বলা যায়, ভার্সিটির জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলো কেবল একটি সংগঠন নয়; এগুলো এক একটি আবেগ, এক একটি নির্ভরতার জায়গা। নতুন শহরে, নতুন জীবনে তারা হয়ে ওঠে আশ্রয়ের প্রতীক।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
