প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০১:৫১ এএম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ন্যায্য মূল্য ও উৎপাদিত পাতা ক্রয়ের দাবিতে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন তামাক চাষীরা।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত তামাক চাষীরা।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১১টায় বোয়ালখালী বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কলেজ গেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রলোভন ও ঋণের মাধ্যমে তাদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করা হলেও পাতা বিক্রির মৌসুমে কোম্পানি ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না। পাশাপাশি উৎপাদিত সব পাতা না কিনে শুধুমাত্র ঋণের টাকার সমপরিমাণ পাতা কিনে নিচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক চাষী।
চাষীরা জানান, প্রতি কানি জমিতে যেখানে ১২ থেকে ১৪ বেল তামাক উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে কোম্পানি মাত্র ৪ থেকে ৫ বেল পাতা গ্রহণ করছে। ফলে অতিরিক্ত পাতা বিক্রি করতে না পেরে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সমাবেশে স্থানীয় চাষী কালাম বলেন,“কোম্পানির কথায় আমরা লোন নিয়ে তামাক চাষ করেছি। কিন্তু এখন পাতা বিক্রির সময় তারা আমাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পাতা কিনছে না। এতে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”
আরেক চাষী মিজানুর রহমান বলেন,“আমার প্রতি কানিতে ১০ থেকে ১২ বেল তামাক হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি মাত্র ৪ থেকে ৫ বেল কিনছে। বাকি পাতা কোথায় বিক্রি করবো? লোন নিয়ে চাষ করেছি, এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”
চাষী শুভেন্দু চাকমা বলেন,“আগে আমি মরিচ ও বেগুন চাষ করতাম। কোম্পানির পরামর্শে তামাক চাষ শুরু করি। কিন্তু এখন তারা আমার উৎপাদিত পাতা কিনছে না। এতে পরিবার নিয়ে আর্থিক কষ্টে দিন কাটছে।”
সমাবেশে চাষীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— কাঁচামালের বাহন কোড চালু করা, প্রতি একর জমির প্রথম ধাপে ১২-১৪ বেল পাতা গ্রহণ, ন্যায্য মূল্যে তামাক পাতা ক্রয়, দুই ধাপে ঋণ পরিশোধের সুযোগ প্রদান এবং ৬০ শতাংশ কালো পাতা ক্রয়ের দাবি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষীরা দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির ম্যানেজার সানাউল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
