মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তি-গোয়েন্দা নজরদারিতে জোর বিজিবির ডিজির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী

দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনপদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি ও মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতার সমন্বয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ছে।

বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাহিনীটি।

এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গম পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যাটালিয়নটির তৎপরতা স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু জনবলনির্ভর সীমান্ত পাহারা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিকেও এগোচ্ছে বিজিবি। দুর্গম সীমান্তে ড্রোন, নাইট-ভিশন প্রযুক্তি, থার্মাল ক্যামেরা এবং আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার সীমান্ত পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় রাতের অন্ধকার কিংবা প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে যেখানে প্রচলিত নজরদারি কঠিন, সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল শনাক্তকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র, স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করছে বিজিবি। এসব অভিযানের পেছনে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের তৎপরতার পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় বিজিবির অভিযানের কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও বিজিবির বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম রয়েছে। চিকিৎসাসেবা, ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী মানুষের সঙ্গে বাহিনীটির একটি আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

লংগদুর দুর্গম জনপদেও বিজিবির সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।

বিজিবির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম সীমান্ত বিওপি পরিদর্শন, দায়িত্বপালনরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সৈনিকদের কল্যাণ, আবাসন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হলে বাহিনীর শৃঙ্খলা ও কর্মস্পৃহা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজিবি ও বাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।

তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

রাজনগর ব্যাটালিয়ন ৩৭ বিজিবির জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহনেওয়াজ তাসকিন বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী দুর্গম এলাকাগুলোতে জওয়ানরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্গম সীমান্তে দায়িত্ব পালন সহজ নয়। প্রতিকূল পরিবেশেও বিজিবি সদস্যরা দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করছে।

সীমান্তের নিরাপত্তা এখন আর কেবল কাঁটাতারের বেড়া কিংবা অস্ত্রধারী প্রহরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক অভিযান, দক্ষ জনবল ও মানবিক দায়িত্ব,সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হচ্ছে নতুন দিনের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Link copied!