মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন নোবিপ্রবি অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১০০ জন সেরা ও গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে সরকার। এ তালিকায় স্থান অর্জন করে নিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন।

​সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

​শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর থেকে সেরা ১০০ জন শিক্ষককে এই ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কারিগরি, মাদ্রাসা ও বিশেষায়িত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষকরা এ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

​অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে নোবিপ্রবির ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। বাস্তুবিদ্যা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ দূষণ বিষয়ক গবেষণায় আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে তার বিশেষ পরিচিতি।

তাঁর শিক্ষাজীবন ও গবেষণা অভিজ্ঞতা অত্যন্ত উজ্জ্বল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামুদ্রিক বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি (অনার্স) ও একুয়াকালচারে এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামুদ্রিক পরিবেশবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মর্যাদাপূর্ণ পোস্টডক্টরাল গবেষণা সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করেছেন।

নোবিপ্রবিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি ড. বেলাল হোসেন দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (যেমন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও শাবিপ্রবি) শিক্ষাবিষয়ক কমিটি ও গবেষকদের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রায় ৭০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিএআরসি (BARC) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থমানের গবেষণা ফান্ড অর্জন করে তিনি দেশের গবেষণা খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন।  

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈশ্বিক অবস্থান

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বৈশ্বিক গবেষণা জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সম্মানজনক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার (Stanford University/Elsevier)-এর তালিকায় ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২% সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষতিকর উপাদান (Emerging Contaminants) নিয়ে গবেষণা করে তিনি বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের কাতারে নিজেকে উন্নীত করেছেন।

গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদান

গবেষণা ও প্রকাশনায় ড. বেলাল হোসেনের সাফল্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। স্কোপাস (Scopus) ইনডেক্সভুক্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ২০০টিরও বেশি মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণাকর্ম বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে, যা ৮,৩৯৮টিরও বেশি সাইটেশন (Citations) এবং ৪৯ h-index দ্বারা প্রমাণিত। উচ্চতর গবেষণার পাশাপাশি তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। 

​সম্মাননা গ্রহণ শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, ​“সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাকে এই সম্মাননা পাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। যারা আমার শিক্ষকতা ও গবেষণাকে মূল্যায়ন করে এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের, যা একই সঙ্গে আমার দায়িত্ববোধও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।” 

তিনি আরও বলেন, “​বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে শিক্ষকের দায়িত্ব ও ভূমিকা আরও বিস্তৃত। শিক্ষার্থীরা এখন মুহূর্তেই নানা তথ্য পাচ্ছে; তাই একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষে তথ্য প্রদান বা পাঠদানে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে চিন্তা করতে শেখানো, জ্ঞান বিশ্লেষণ ও প্রয়োগে উৎসাহিত করা, গবেষণায় আগ্রহী করা এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেওয়াই এখন শিক্ষকের মূল কাজ।” 

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো জরুরি জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং একজন ভালো, সৎ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করার অনু

Link copied!