মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় শিক্ষক দিবস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: জীবনে কিছু মানুষকে আমরা অনেক পরে গিয়ে চিনতে শিখি। তাঁদের মূল্য বুঝতে বুঝতে হয়তো পেরিয়ে যায় অনেক বছর। শিক্ষক তেমনই একজন মানুষ। তাদের অবদান গুলো নীরবেই থেকে যায়। আজ ৫ ই অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘শিক্ষক দিবস’। শিক্ষকদের নিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া শেখ রাইতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে আসছি—বাবা-মায়ের পরেই শিক্ষকের স্থান। স্কুল, কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আসা পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষক আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ পড়াশোনার ক্ষেত্রে সঠিক পথটা দেখিয়েছেন, কেউ ভুল করলে তা শুধরে দিয়েছেন, আবার কখনো কঠিন সময়ে তাঁদের দু-একটি কথাই আমাদের নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। প্রিয় অপ্রিয় মিলে সকল শিক্ষকের থেকে কিছু না কিছু তো আমরা শিখেছি। শিক্ষকরা আমাদেরকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, জীবনের নানা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করেন।আমাদের জীবনের অনেক সাফল্যের পেছনে  কোনো না কোনো শিক্ষকের অবদান রয়েছে। তাই সকল শিক্ষকের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষার আলোয় আমাদেরকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়তে কোনোরকম স্বার্থ ছাড়াই আমাদের শিক্ষকরা নিরলস প্রচেষ্টা চালান। আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও সেটা ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষক দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত বিদ্যাপীঠের সত্যিকারের মানুষ ও জাতি গঠনের কারিগরদের আন্তরিক সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একইসাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে পদার্পণ করলেও আমাদের অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টে প্রকটভাবে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের শিক্ষকদের প্রমোশনসহ বিভিন্ন নায্য দাবি পূরণে টালবাহানা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক দিবসে আমাদের শিক্ষকদের নায্য দাবি পূরণ, শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির উদ্যোগ আশা করছি‌। একইসাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই আন্তরিক সম্পর্ক টিকে থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অতশি তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষক দিবস আমাদের জীবনে শিক্ষকদের অবদান ও ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার একটি বিশেষ দিন। একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভুল শুধরে দিয়ে তাকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর দেওয়া শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীর জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দিতে পারে। তাই শিক্ষককে জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর বলা হয়। আমার দৃষ্টিতে, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু শিক্ষক দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ করা উচিত। তাঁদের পরিশ্রম, ধৈর্য ও ভালোবাসার যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষক দিবস তাই আমার কাছে কেবল একটি উদযাপনের দিন নয়, বরং শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ।’

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমাদের শিক্ষকরা যে আন্তরিকতা ও পরিশ্রম নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চাপ পড়ে। তবুও তারা ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনের সময় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক থাকার চেষ্টা করেন। শিক্ষক দিবসে তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের এই পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতা আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও অনুপ্রাণিত করে।’

Link copied!