প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এলেও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি এসব কথা বলেন।
সুলতান আহমেদ রাহী লিখেছেন, ‘সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে ছাত্রশিবির চক্রান্ত করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ও সত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।
তবে হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি রাহী। বরং ছাত্রশিবিরকে অভিযুক্ত করে তিনি লিখেছেন, রাবি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাংবাদিক ভাইয়ের গায়ে হাত তুলবে না। রাবি ছাত্রদল ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে শিবিরের অপচেষ্টার আমরা নিন্দা জানাই।
ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, আজকের ঘটনায় কোনো সাংবাদিক ভাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকলে, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এদিকে হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিকদেরই ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, কোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে জিয়া হলে গেলে সংক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর যেসব সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানা হামলা করতে এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে হলের গেটে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাটবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।
পরে প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে অবস্থানের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন—আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
হামলায় জড়িত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নাম এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলায় অংশ নেন।
