প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে ছুটি ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নূরুল করিম চৌধুরীর নিকট এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন এবং প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজার দিন ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করে তা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিটি আবাসিক হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি কক্ষ বরাদ্দ এবং নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে সাধারণ আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আদিবাসী কোটা ১ শতাংশ স্থায়ী করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের সমতল অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বিঝু, বিযু, বৈসু, বিহু, সাংগ্রাই, চাংক্রান ও সাংক্রানসহ বিভিন্ন উৎসব সাধারণত ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত উদযাপিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিবার ও নিজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে উৎসব পালন করতে বাড়িতে যান।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি থাকলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এসব প্রধান উৎসবের জন্য পৃথক ছুটি নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব যথাযথভাবে উদযাপন করতে পারছেন না।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অধিকাংশ আদিবাসী শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। তাদের পড়াশোনায় আর্থিক কারণে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সময় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে সাধারণ আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আদিবাসী কোটার আসনও ১ শতাংশ হারে স্থায়ী করার দাবি জানানো হয়।
রেজিস্ট্রার নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, 'আমরা স্মারকলিপিটি ক্যালেন্ডার প্রণয়ন কমিটির কাছে পাঠাব। পরবর্তীতে এটি একাডেমিক কাউন্সিলেও উপস্থাপন করা হতে পারে। পূর্বেও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু এবার একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্তির দাবি এসেছে, ছুটির বিষয়টি কীভাবে নির্ধারণ করা যায় এবং কোন কোন দিন অন্তর্ভুক্ত রাখা যায়, তা কমিটির মাধ্যমেই বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, হলগুলোতে আলাদা রুম বরাদ্দের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে।'
