প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সহসভাপতি পদমর্যাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
এর আগে রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এদিকে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব। সেখানে তিনি লেখেন— “মিডিয়ার চাপে (৯০% জামায়াতি সাংবাদিক) যদি প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিকারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জঙ্গি সালাউদ্দিন আম্মারের চ্যালা, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কারচুপির রাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত জিএস আরিফুলকে ধরতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানাদের প্রতিহত করার কারণে যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়মূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে বুঝব, এই দলে ত্যাগী, নির্যাতিত, সাহসী ও যোগ্যদের কোনো ঠাঁই নেই এবং ছাত্রদল তথা বিএনপিতে বটেদের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। যোগ্য ও ত্যাগীদের দরকার নেই।”
