মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
সোমবার ৩১, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
পেটে বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই আধুনিক ল্যাপারোস্কোপি পদ্ধতিতে জন্মগতভাবে জরায়ু ও যোনিপথ অনুপস্থিত এক নারীর কৃত্রিম যোনিপথ তৈরির জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। ৩০ বছর বয়সী ওই নারী বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. শাহী আরশাদ জানান, ওই নারীর জন্মগত বিরল সমস্যা এমআরকে এইচ - মেয়ার-রকিটানস্কি-কুস্টার-হাউজার সিনড্রোম ছিল। এই সিনড্রোমে একজন নারীর স্বাভাবিক নারীসুলভ শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও কার্যকর ডিম্বাশয় থাকলেও জন্মগতভাবে জরায়ু ও যোনিপথ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অনুপস্থিত থাকতে পারে। ফলে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন নিয়ে শারীরিক ও মানসিক সংকট দেখা দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে ওই রোগীর জরায়ু ও যোনিপথ ছিল না।
ডা. শাহী আরশাদ জানান, রোগীর পেটে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া না করে কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ল্যাপারোস্কোপ ব্যবহার করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দক্ষতানির্ভর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন যোনিপথ তৈরি করা হয়েছে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ফারজানা হক পর্না বলেন, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপি বলতে বোঝায় উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষ দক্ষতার মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে ক্যামেরা ও সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারিক যন্ত্র ব্যবহার করে অপারেশন করা। ক্যামেরার বড় পর্দার মাধ্যমে দেখে এই সার্জারি সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, প্রচলিত ওপেন সার্জারির তুলনায় ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে: পেটে বড় কোনো দাগ বা কাটা থাকে না। অস্ত্রোপচারজনিত ব্যথা ও রক্তক্ষরণ তুলনামূলক অনেক কম হয়।হাসপাতালে কম সময় অবস্থান করতে হয়।খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়।
ডা. শাহী আরশাদ জানান, মৌলভীবাজারে এই প্রথম এবং সরকারি হাসপাতালে এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাইরে এ ধরনের চিকিৎসায় প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়।
অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ফারজানা হক পর্নানও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. শাহী আরশাদ। এতে আরও অংশ নেন সহকারী চিকিৎসক ডা. ইমরান আহমদ, এবং দুই সিনিয়র স্টাফ নার্স মনিক রায় ও মো. আবদুল্লাহ মিয়া।
চিকিৎসকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ায় এখন থেকে এ অঞ্চলের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার দুর্ভোগ ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
এই সফল অস্ত্রোপচার শুধু একটি বিরল জন্মগত সমস্যার চিকিৎসাই নয়, এটি একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, দাম্পত্য জীবন ও ভবিষ্যতকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। একইসঙ্গে এই সাফল্য দেশে আধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক গাইনোকোলজিক্যাল সার্জারির অগ্রগতিরও একটি উদাহরণ।