প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় দেশের সব ডাক কার্যালয় ও ডাকঘরকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে ডাক অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
ঘোষণায় জানানো হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) অনুযায়ী পাবলিক প্লেসসমূহে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর ফলে সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।
সভায় জানানো হয়, গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস, ২০১৭) অনুযায়ী ধূমপান না করেও গণপরিবহন, রেস্টুরেন্ট ও পাবলিক প্লেসে সম্মিলিতভাবে ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। একই সঙ্গে টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬)’ পাস করা হয়। আইনে পাবলিক প্লেস এবং সব ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, ‘তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর’। তাই পাবলিক প্লেস এবং সব ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন যে, “তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণকে বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি আশা করেন যে, ডাক অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন যে, “ডাক অধিদপ্তরকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা শুধু একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ডাকসেবাসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে আগত লাখো সেবাগ্রহীতা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন। সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য, তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধি এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা সবাই তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডাক অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
