প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
শাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে গণপরিবহনে যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে চাকসু এজিএস ও চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের ফোনে ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী কল করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে পেছনের সিটে বসা এক ব্যক্তি তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করে যৌন হয়রানি করেছেন। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানার পর তৌফিক তাৎক্ষণিকভাবে চবি ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্য ও নেতৃত্বদের বিষয়টি অবহিত করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন। তার আহ্বানে চবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন, সহ-সভাপতি তৌহিদসহ ফারহান ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা দ্রুত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটে উপস্থিত হন।
একই সময়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) ঘটনাটি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুরাও থানায় উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কাননের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আমি জানার পর পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং আমি যাওয়ার আগেই ওখানে হাটহাজারী থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। অপরাধীকে আমরা সাথে সাথেই থানায় নিয়ে যাই এবং আমাদের সেই ভুক্তভোগী ছাত্রী চেয়েছে সে মামলা করবে। তো পরবর্তীতে আমি ওসি সাহেবকে অনুরোধ করি এবং যৌন হয়রানির অপরাধের ধারায় মামলা হয় এবং সকালে অপরাধীকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।
চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতার সহিত সাহস করে ঘটনার কথা জানানোর জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। একটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন গণপরিবহনে কোনো শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাস মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে।
