মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যেসব খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

বর্ষা প্রকৃতিতে এনে দেয় সতেজতা ও প্রাণের ছোঁয়া। তবে এই মৌসুমে পরিবেশে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণও বেড়ে যায়। পাশাপাশি দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, ভাইরাল সংক্রমণ, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায় হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা। আর এ ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল ওষুধের তুলনায় সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস অনেক বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের খাবারে কিছু পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করে এবং মৌসুমি রোগের ঝুঁকিও কমে আসে।

ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফলের গুরুত্ব

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, আমলকি ও কিউইয়ের মতো ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এসব ফল শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

মৌসুমি শাকসবজি রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়

বর্ষাকালে সহজলভ্য বিভিন্ন তাজা শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের সমৃদ্ধ উৎস। এসব উপাদান শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখে। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত পালং শাক, লাল শাক, গাজর, লাউ, ঝিঙা, করলা, কুমড়া, ব্রকোলি ও ফুলকপি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আদা ও রসুনের প্রাকৃতিক উপকারিতা

আদা ও রসুনে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক জৈব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। প্রতিদিনের রান্নায় আদা ও রসুন ব্যবহার করলে খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ দুটোই বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বর্ষার দিনে এক কাপ গরম আদা চা অনেকের জন্য আরামদায়ক ও উপকারী পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে বর্ষাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

Link copied!