প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর দুটি ম্যাচকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে দল গঠন এবং বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।
জানা যায়, গত ১৫ ও ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নোয়াখালী অঞ্চলের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে ‘নোবিপ্রবি’ দল মুখোমুখি হয় ‘নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ’ দলের এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ‘নোয়াখালী শহর’ দলের বিপক্ষে অংশ নেয়।
খেলা শেষে আয়োজকদের ফেসবুক পেজে ম্যাচের ছবি প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে এ ধরনের আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের খেলোয়াড়ও অংশ নিয়েছেন। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল কি না এবং এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা প্রশাসনের স্পষ্ট করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসমাইল বলেন, “ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে কেন্দ্রীয় মাঠে এমন আয়োজন উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে দল গঠন এবং বহিরাগতদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নোবিপ্রবির নিয়মিত শিক্ষার্থী। কেবল খেলার প্রয়োজনে অল্প কয়েকজন আমন্ত্রিত খেলোয়াড় অংশ নেন এবং খেলা শেষে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এটি সম্পূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন ছিল, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়।”
তিনি আরও বলেন, “দুটি ম্যাচই সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে শেষ হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বা স্বাভাবিক পরিবেশে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রীয় মাঠে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বহিরাগতদের অংশগ্রহণে ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ নিয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগও আসেনি।”
ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই সময় আমি উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে ছিলাম না।
