প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার এই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সেবায় অটোমেশন ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এখনো পরিচালিত হচ্ছে প্রচলিত কাগজের লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আধুনিক ও দ্রুত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান সহায়ক প্রতিষ্ঠান। তবে লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় এখনো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টিকে সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়(খুবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে কাগজের কার্ডেই চলছে।
এ নিয়ে বাংলা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা খানম বলেন, “আমরা এমন একটি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, যখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু লাইব্রেরিতে এখনো কাগজের কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্মার্ট কার্ড চালু হলে সেবা গ্রহণ অনেক সহজ হবে।”
রসায়ন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, 'লাইব্রেরি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকাটা দুঃখজনক। কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড সংগ্রহ করাও ঝামেলার বিষয়। ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবে।'
একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রব্বানী হোসেন বলেন, 'দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড চালু রয়েছে। সেখানে কয়েক সেকেন্ডেই বই ইস্যু ও ফেরত দেওয়া যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন ব্যবস্থা চালু এখন সময়ের দাবি।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন আলম বলেন, 'লাইব্রেরি কার্ড ডিজিটাল করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আগের উপাচার্য হায়দার আলী স্যারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলাম। তবে তিনি শুধু লাইব্রেরির জন্য আলাদা কার্ড না করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইউনিক আইডি কার্ড চালুর কথা বলেন। পরে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই পরিকল্পনাও এগোয়নি।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান উপাচার্য অনুমতি দিলে আগামী তিন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড দেওয়া এবং পুরো লাইব্রেরিকে অটোমেশনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'আমরা আগে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। আগামীকাল (২০ জুলাই) যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অটোমেশন সিস্টেম চালু হলে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বই ইস্যু ও রিটার্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি কোন বই লাইব্রেরিতে রয়েছে, সেটির অবস্থান কোথায়, বর্তমানে ইস্যুকৃত কি না এবং ইস্যু থাকলে কবে পুনরায় পাওয়া যাবে, এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব হবে। এতে লাইব্রেরি সেবার গতি, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
