শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬

শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

রাবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ দিবস পালন

রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, হৃদয় তারুয়া, ফরহাদ হোসেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যান্য শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনের যে মর্মার্থ ও স্পিরিট যদি আমরা ধারণ করতে না পারি, এই আন্দোলন কখনো সফলতার মুখ দেখবে না। আমরা নিজেরাও আমাদের সন্তানদের পাশে এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি এবং স্বচক্ষে দেখেছি এটার নির্মমতা কতটুকু ভয়াবহ। এ উপমহাদেশে বাঙালি জাতির যে ইতিহাস, যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, একত্রিত হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "জুলাই-২৪ এ আপামর পেশাজীবী, শ্রমজীবী, ছাত্রসমাজের যে আত্মত্যাগ ও অবদান; এবং এ জুলাই-এর স্পিরিটকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে অবদান রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।"

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই শহীদ যোদ্ধা মোঃ ফরহাদ হোসেন স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে।" এছাড়া তিনি বলেন, "শহীদ মীর মুগ্ধের মতো তরতাজা যুবক, শিশুসহ হাজার হাজার শহীদ হয়েছেন, সে শহীদদের আমরা ফিরে পাবো না তবে তাদের চেতনা ধারণ করতে হবে। জুলাই-২৪ এ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে নিরলস সংগ্রাম, সে সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক পরিবারের সন্তানরা আজ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, সেইসব পরিবার আজ সমাজের চারদিকে দুঃসহ বেদনায় দিন পার করছেন। তাদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে রাষ্ট্র এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"

সবশেষে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মোসা. হাবিবা এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের আত্মদান নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন সমাজ, ন্যায়বিচার, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে। এ সময় ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের অনিবার্যতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের দোয়া পরিচালনা করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বন্যাকবলিত বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ফখরুদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!