প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৪০ জন শিক্ষার্থীকে মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ মেধাবৃত্তি ও মেধাবী স্টাইপেন্ড প্রদান করা হয়েছে।বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক বিজ্ঞান অনুষদের হল রুমে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭২ জন শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি এবং ৬৮ জন শিক্ষার্থীকে মেধাবী স্টাইপেন্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলা ও মানবিক অনুষদের অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল,ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
ধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, মেধাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং তাদের মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার স্বীকৃতি। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানভিত্তিক গবেষণা, নতুন ধারণা সৃষ্টি এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিধি আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি দেশ ও সমাজের কল্যাণে জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, শিক্ষা একটি জাতির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, সততা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, সরকারের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের অর্জিত সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন নিজের বিষয় নিয়ে হীনম্মন্যতায় না ভোগে; বরং নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও অর্জন ধরে রাখতে দায়িত্বশীলতা, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও দেশ-সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মেধাবৃত্তি ও স্টাইপেন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ৬ ফ্যাকাল্টিতে মেধাবী, অসচ্ছল মেধাবী এবং স্পোর্টস ক্যাটাগরিতে মোট ৪০২ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান হয়৷ পরবর্তীতে ফ্যাকাল্টিগুলো আলাদাভাবে সমন্বয় করে অনুষ্ঠান করে শিক্ষার্থীদের মাঝে চেকগুলো বিতরণ করেন।
