শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬

শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৬৬৭ ঘরবাড়ি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২২ পিএম

মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৬৬৭ ঘরবাড়ি

অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার প্রায় ৩ হাজার ৬৬৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক, একাধিক সেতু-কালভার্ট এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারি হিসাবে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজারের বেশি হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, বন্যায় ৩৩টি সড়কের প্রায় ৯৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সড়ক ক্ষতির পরিমাণ ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং চারটি সেতু ও কালভার্টের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যার পানি কমলেও অনেক এলাকার ঘরবাড়ি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। অনেক পরিবার প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছে। বাড়িঘর শুকিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যায় ২৪৮ হেক্টর আউশ ধান, ৮৬ দশমিক ৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৬৪ দশমিক ৫০ হেক্টর সবজি চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও অনেক পরিবার এখনো নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বাড়তে শুরু করায় হাওর তীরবর্তী এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলিদ বলেন, মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি কমেছে। চলতি সপ্তাহেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

Link copied!