শনিবার ২৭, জুন ২০২৬

শনিবার ২৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

বাকৃবির গবেষণায় ভুট্টার অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ ৯০ শতাংশ কমানোর সাফল্য

বাকৃবি থেকে মো.আবু হানিফ

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

বাকৃবিতে ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ রোধে জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী সেমিনার। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

দেশে উৎপাদিত ভুট্টায় ছত্রাকজনিত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মাইকোটক্সিন অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ রোধে জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন বিষয়ক একটি গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় 'আসেসিং বায়োকন্ট্রোল ইফিকেসি অব আটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইনস এগেইনস্ট অ্যাফ্লাটক্সিন কন্টামিনেশন ইন মেইজ প্রোডিউসড ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার (সিআইএমএমওয়াইটি) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিস্টার ওয়েন ডি কালভার্ট, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুজিবর রহমান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত এ রাব্বী। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসলাম হামীম।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রসিদুল ইসলাম। তিনি ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের কারণ, মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং জৈব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর কার্যকর প্রতিরোধের সফলতা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মো রসিদুল ইসলাম বলেন, 'ভুট্টা বাংলাদেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দানাজাতীয় ফসল। বর্তমানে দেশে এর বার্ষিক উৎপাদন ৫০ লাখ টনেরও বেশি। উৎপাদিত ভুট্টার অধিকাংশই গবাদিপশু, হাঁস মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস নামক ছত্রাকের সংক্রমণে ভুট্টায় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মাইকোটক্সিন অ্যাফ্লাটক্সিন উৎপাদিত হয়। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং ক্যান্সারের মত জটিল রোগ সৃষ্টি করে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে লিভার ক্যান্সার ও লিভার সিরোসিসের পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশী অ্যাফ্লাটক্সিনের কারণে হয়ে থাকে। তাই গবেষণায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভুট্টা উৎপাদন অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি আধুনিক মলিকুলার প্রযুক্তির মাধ্যমে টক্সিজেনিক ও এটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইন শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তকৃত এটক্সিজিনিক স্ট্রেইন ব্যবহার করে অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ কমানোর লক্ষ্যে বায়োপেস্টিসাইড উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে নিরাপদ ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রাণিখাদ্য নিশ্চিতকরণ, গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।'

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'গবেষক দলের উদ্ভাবিত এই জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যাফ্লাটক্সিন যেমন মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি এটি ভুট্টার উৎপাদন ও গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পারলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।'

Link copied!