প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১২:২৫ এএম
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদে একটি কুকুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে অনুষদীয় লাইব্রেরির কর্মকর্তা আব্দুল কালামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় একটি মুরগি ধরাকে কেন্দ্র করে কুকুরটির ওপর সহিংস আচরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুষদীয় লাইব্রেরির কর্মকর্তা আব্দুল কালাম কুকুরটিকে মারধর করলে প্রাণীটি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
শিক্ষার্থীরা জানান, কুকুরটি পূর্ব থেকেই পায়ের আঘাতজনিত সমস্যার কারণে তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তারা দ্রুত প্রাণীটির জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে চিকিৎসার পরও কুকুরটির শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর অনুষদের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, প্রাণীটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বারবার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, কোনো প্রাণী ক্ষতি করলে তার মানবিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান খোঁজা উচিত, সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে প্রাণী চিকিৎসা ও কল্যাণ সংশ্লিষ্ট একটি অনুষদে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আলী আজগর বলেন,
"ঘটনার কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রক্টর মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, রবিবারের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুল কালামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত প্রাণীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমের দিকে এখন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নজর রয়েছে।
