পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর চন্দ্র রায়
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
রবিবার ২১, জুন ২০২৬ -- : -- --
দূর্জয় কর্মকার
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে রাশিয়ার ওবনিন্সক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ "৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ফোরাম ওবনিন্সক নিউ" -এ অংশ নিতে যাচ্ছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব দুর্জয় কর্মকার।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন (রসাটম) এর বিশেষ আমন্ত্রণে ৮ দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ২৩শে জুন রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি।
গত নভেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত "গ্লোবাল এটোমিক কুইজ"-এ অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন দুর্জয়। হাজার হাজার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীর মধ্যে ১৮-২৫ বছর ক্যাটাগরিতে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে স্থান পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ রসাটম তাকে এই ফোরামে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনীত করে।
আগামী ২৬শে জুন রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞান নগরী ওবনিন্সকে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৫৪ সালের ২৬শে জুন এই শহরেই পৃথিবীর সর্বপ্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের এই ফোরামটি মূলত সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে।
এই ফোরামে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থী দুর্জয় বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি পেশাদার আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নিউক্লিয়ার এনার্জির ভবিষ্যৎ, আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্যানেল ডিসকাশন, বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ থেকে তিনি উচ্চতর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
সফরের মূল ফোরামের দায়িত্ব শেষ করে তারা রাজধানী মস্কো ভ্রমণ করবেন এবং সেখানে রেড স্কয়ার, ক্রেমলিন, সেন্ট বেসিলস ক্যাথেড্রালসহ বিখ্যাত "অ্যাটম" প্যাভিলিয়নের ইন্টারেক্টিভ বিজ্ঞান প্রদর্শনী ঘুরে দেখার কথা রয়েছে। আগামী ৩০শে জুন সফর শেষ করে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দূর্জয় জানান - আন্তর্জাতিক যুব নিউক্লিয়ার ফোরামে অংশগ্রহণ করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ। ১৯৫৪ সালে এই ওবনিন্সক শহরই পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে ইতিহাস গড়েছিল। আজ রাশিয়া যেমন সেই ৭০ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করছে, ঠিক তেমনি আমরা ভবিষ্যতের দিকেও তাকাচ্ছি। আমাদের বাংলাদেশও এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে তার পরমাণু যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো তরুন শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফোরাম একটি সেতু।
এখানে শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের কথা শোনা এবং উচ্চ-পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা শিখছি কীভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংকট সমাধান করতে পারে। বিশ্বের এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সফলভাবে এই সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে তিনি তার শিক্ষক, সহপাঠী, পরিবার এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রার্থনা করছি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্জয় কর্মকারের এটিই প্রথম সাফল্য নয়। এর আগেও তিনি গত বছর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার মস্কোতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ওয়ার্ল্ড এটোমিক উইকে অংশ নিয়েছিলেন।