সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
রবিবার ২১, জুন ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৬’। শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ।
টেক্সটাইল উৎপাদন প্রকৌশল, ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন ও কিট বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।
সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জার্মানির হচ্শুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. ব্যাস্টিয়ান কুয়াটেলবাউম। এছাড়া বক্তা হিসেবে অংশ নেন নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জুট ও কোকোয়া সেক্টরের টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ওলাম ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস (ওএফআই)-এর হেড অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স মিশিয়েল কোকেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “পাট একটি নবায়নযোগ্য এবং প্রাকৃতিক ফাইবার। পাট থেকে কার্পেটসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও শিল্পপণ্য তৈরি করা হয়। তবে আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ কর্মরত, যার অধিকাংশই নারী এবং এই খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। টেক্সটাইল শিক্ষার ক্ষেত্রে বুটেক্স একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গবেষণা ও উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখছে।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন টেক্সটাইলের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি টেকসই এবং স্মার্ট টেক্সটাইল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় টেক্সটাইল বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ওপর আরও গুরুত্ব আরোপ করবে।”
মিশিয়েল কোকেন বলেন, ”পাট একটি নবায়নযোগ্য এবং প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল উপাদান। এটি 'সার্কুলার ইকোনমি' কে সমর্থন করে, যা খাদ্য সরবরাহ চেইনে টেকসই প্যাকেজিংয়ের জন্য একে আদর্শিক ভাবে গড়ে তোলে। পাটের প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় 'এমওএসএইচ' এবং 'এমওএএইচ' নামক খনিজ তেলের হাইড্রোকার্বন দূষণ ঘটতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সীমা এবং মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বর্তমানে কোকো শিল্পের জন্য নিরাপদ এবং টেকসই পাটজাত প্যাকেজিং উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অনন্য অবস্থানে রয়েছে।”
বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বুটেক্স টেক্সটাইল শিক্ষায় স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। বুটেক্স থেকে প্রতিবছর টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটরা বের হয়ে গার্মেন্টস সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়াও আমাদের অধিকাংশ গ্র্যাজুয়েটরা বিসিএস ক্যডার হয়েছে এবং বিদেশে অধ্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এছাড়াও আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান রিসোর্স নেই যা দ্বারা আমরা ইনোভেশন করতে পারব। তার জন্য আমাদের মর্ডাণ ল্যাব ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসসহ নানান কিছুর দরকার।”
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইকোনমি আসে আমাদের টেক্সটাইল শিল্প থেকে যেখানে বুটেক্সের অধিকাংশ গ্র্যাজুয়েট তাদের দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না আমাদের স্কিল বেইজড পড়াশোনার দিকে আগাতে হবে। চার বছর পর যেনো বলতে না হয় একজন শিক্ষার্থী কিছুই শিখেনি। তাই আমার প্রত্যাশা থাকবে যেনো বাংলাদেশ সরকারের নতুন অবকাঠামোর মতো যেনো সবাই স্কিল বেইজড পড়াশোনা করে এবং টেক্সটাইল সায়েন্সের যে ইনোভেটিভ কাজ তা যেনো তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”
উদ্বোধনী পর্ব শেষে ধারাবাহিকভাবে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে গবেষকদের পোস্টার উপস্থাপনাও আয়োজন করা হয়। পরে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের সম্মেলনের জন্য দেশ-বিদেশের গবেষকদের কাছ থেকে মোট ২৫৮টি অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা পড়ে। রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো মূল্যায়ন শেষে ৪৮টি গবেষণাপত্র মৌখিক উপস্থাপনা এবং ২০টি গবেষণাপত্র পোস্টার উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়।