মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত ছবি
মৌলভীবাজারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও মানবিক সংগঠন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস)।
সোমবার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পরিবেশগত উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক নুরুল ইসলাম মাহবুব। উপস্থিত ছিলেন বিআইএস-এর আজীবন সদস্য দেলওয়ার হোসেন এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য রেদয়ান আহমদ ছামী।
লিখিত বক্তব্যে শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, “মৌলভীবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০১৭ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছি আমরা। সেই দাবী আজ গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশে - প্রবাসে গোলটেবিল বৈঠক, সেমিনার, আলোচনা সভা, স্মারকলিপি প্রদান, জেলাব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ আমাদের কর্মসূচি চলমান। নানা স্থানে লিখিত ও মৌখিক ধরনা দিচ্ছি আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এই সব কর্মসূচীতে সকলেই মৌলভীবাজারে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “মৌলভীবাজার একটি অগ্রসরমান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এলাকা। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই জেলার বনজ ও খনিজ সম্পদ শিল্প, পর্যটন শিল্প, চা শিল্প ও আগর শিল্প ইত্যাদি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এই জেলার আরো উন্নয়ন সময়ের দাবি। পর্যটনের জন্য সমৃদ্ধ এই জেলা। এই জেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে যারা প্রাইভেট মেডিকেলে টাকার অভাবে পড়তে পারে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। যার ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বাড়ছে। ৭টি উপজেলার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জন্য নাই কোনো মেডিকেল কলেজ। অনেক মুমূর্ষ রোগীকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না যে কারণে অনেক মুমূর্ষ রোগী সিলেট অথবা ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় মৌলভীবাজারে দ্রুত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে শুরু করার জন্য আমরা সবিনয় নিবেদন করছি।”
হাওরাঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষায় হাওরের দৃষ্টিনন্দন বিশাল জলরাশি দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যের সবচেয়ে বড় উৎসস্থল। শুকনো মৌসুমে এসব হাওর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে নিরন্তর ভূমিকা রাখছে হাওরাঞ্চল। হাওর-নদী-চা বাগান-ঝরনা-পাহাড়ি টিলা-খাল-বিলের অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের মৌলভীবাজার। জেলার ভূপ্রকৃতির ফুসফুসের ভূমিকা পালন করছে: উজানের চা-বাগান বেষ্টিত পাহাড়-জঙ্গল। আর কিডনির ভূমিকা পালন করছে: ভাটি অঞ্চলের ছোট-বড় ৩০টি হাওর, এই হাওরগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয়। বক্তব্যে বলা হয়, “বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির জন্য সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে আগতদের যাতাযাতের সুবিধার্থে প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক শমশেরনগর বিমান বন্দরটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সরাসরি ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এছাড়া সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের যে বেহাল দশা তা থেকে মুক্ত করতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন করতে হবে ঢাকা সিলেট রেলপথের ডাবল লাইন এবং জেলা সদরের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক জরুরী হয়ে পড়েছে মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— মৌলভীবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, জেলার ছোট-বড় হাওরসমূহের সুরক্ষা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, পাবলিক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মৌলভীবাজার বাইপাস সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইন ও রেলসেবা সম্প্রসারণ।