রবিবার ২১, জুন ২০২৬

রবিবার ২১, জুন ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে ফাঁকা ১১৩ আসন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের সংখ্যায় ইতিহাস গড়লেও আসন পূরণে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ৮৯০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৯৭ হাজার আবেদন জমা পড়লেও ছয় দফা মেধাতালিকা প্রকাশের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১১৩টি আসন এখনো শূন্য রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় থাকলেও ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করে। প্রথম বছরেই এ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মেলে।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ৬৫ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ১৪০টি আসন কমিয়ে মোট আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ৮৯০টি। তবে আসন কমলেও আবেদন বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৬১২ জনে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এতে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রায় ১০৮ জন ভর্তিচ্ছু।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে ছয়বার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে মোট ১১৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে ২টি, লোকপ্রশাসন বিভাগে ১১টি, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১১টি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১০টি এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ৯টি আসন শূন্য রয়েছে। কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগে ৯টি এবং প্রকৌশল অনুষদের আইসিটি বিভাগে ৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগে ৩টি, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ৩টি, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ২টি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ২টি আসন শূন্য রয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১৩টি, পরিসংখ্যান বিভাগে ১১টি এবং গণিত ও রসায়ন বিভাগে ৭টি করে আসন এখনো পূরণ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ভর্তি কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে আগে শেষ হওয়ায় পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ তালিকা ও গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে কুবির ভর্তি বাতিল করেন। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। ক্লাস শুরুর দুই মাস পার হলেও ফাঁকা আসন পূরণে নতুন ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

তবে মাঝপথে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হলে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট এবং মিডটার্ম পরীক্ষার ওপর মোট ৪০ নম্বর নির্ধারিত থাকে। ফলে দেরিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা জানান, নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের জন্য অতিরিক্ত বা মেকআপ ক্লাসের আয়োজন করা হবে এবং সিলেবাস সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পরবর্তীতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় পেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি বাতিল করে সেখানে চলে যায়। অন্যদিকে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমও চলমান ছিল। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে ভর্তি বাতিল করেছে।”

নতুন শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট ও মিডটার্মের ৪০ নম্বর কীভাবে সমন্বয় করা হবে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমরা একটি মৌলিক নির্দেশনা দেব, যাতে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

Link copied!