মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ এএম
সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত ছবি
জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও নিরাপদ আশ্রয়ের দেখা পাননি ৭৫ বছর বয়সী নিহার বেগম। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮ নম্বর মনসুরনগর ইউনিয়নের তাহারলামুয়া গ্রামের রাস্তার পাশে অনিশ্চয়তা আর মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেই কাটছে তার দিন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা হারিয়েছেন চলাফেরার সক্ষমতা, পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিও আগের মতো নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহার বেগম জন্ম থেকেই তাহারলামুয়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের বাসিন্দা সমস্তি মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী জীবিত থাকাকালে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল সংসার জীবন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা।
অভিযোগ রয়েছে, সৎ ছেলে লেচু মিয়া বসতভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে দিলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন নিহার বেগম। এরপর থেকে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জীবনযাপন করলেও বয়সজনিত কারণে স্মৃতিশক্তি হারানো এবং অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কোথাও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেননি। আশ্রয়দাতাদের অভিযোগ, অসুস্থতার কারণে ঘর নোংরা হয়ে যাওয়ায় অনেকেই তাকে রাখতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
বর্তমানে তাকে আশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা রাজা মিয়া। তিনি বলেন, “রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে ঘরে এনেছি। মানুষ তো। কিন্তু আমি দিনমজুর। স্থায়ীভাবে রাখা, খাওয়ানো, চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব না। সরকার যদি একটা ব্যবস্থা করে।”
এ বিষয়ে ৮ নম্বর মনসুরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “লেচু মিয়াকে ইউনিয়ন অফিসে ডেকেছিলাম, আসেনি। পিতা-মাতা ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী সে দায়িত্ব এড়াতে পারে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো। পাশাপাশি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি বয়স্ক ভাতা ও বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসনের জন্য।”
অন্যদিকে, সৎ পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, “আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার আগেই ওনার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে গেছেন। এখন নতুন করে আমরা দায়িত্ব নিতে পারব না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, মানবিক বিবেচনায়ও নিহার বেগমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে তাকে স্থানান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিহার বেগমের মতো অসহায় প্রবীণদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।