রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
গুমের অন্ধকার থেকে ফিরে আসা মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের জীবনসংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক পথচলাকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘গুমের অন্ধকার থেকে প্রত্যাবর্তন: স্মৃতি, সংগ্রাম ও প্রেরণায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান সুরুজ।
অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া শিক্ষার্থী আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া সূর্যসন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা ও কষ্ট আমাদের সবার জন্য বেদনার। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”
গুমের অন্ধকার থেকে ফিরে আসা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, “গুমের সেই দিনগুলো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, পরিবারের অপেক্ষা এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে আমি নতুন প্রেরণা পাচ্ছি। যারা এখনও তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের বেদনা আমি গভীরভাবে অনুভব করি।”
তিনি বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। সত্য একদিন না একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম অতীতের অন্যায়-নির্যাতনের ইতিহাস জানুক এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সচেতন ভূমিকা পালন করুক।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া শিক্ষার্থী আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি এবং সত্য উদঘাটনের দাবি অব্যাহত রাখব।”
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “গুম শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবারকে, একটি সমাজকে এবং পুরো জাতিকে ক্ষতবিক্ষত করে। আজকের এই আয়োজন সেই ক্ষত ও সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করার পাশাপাশি মানবিক সংহতির বার্তা বহন করছে।”
তিনি বলেন, “গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে আমরা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ত্যাগ ও মানসিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে ছাত্রদল সোচ্চার থাকবে।”
অনুষ্ঠানে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।