রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

রবিবার ১৪, জুন ২০২৬ -- : -- --

প্রেমের সত্যতা পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে বহিষ্কার করল ছাত্রশিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

জিসান আহম্মেদ প্রধান

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তের সঙ্গে মামলার বাদীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করে শনিবার (১৩ জুন) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনের সাংগঠনিক বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনোটি তদন্তে প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করবে ছাত্রশিবির।

তবে পুরো ঘটনা ও মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্নও উত্থাপন করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, শুক্রবার রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা সংগঠনের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নিখোঁজের ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সংগঠনের বিবৃতিতে মামলার বাদীর বড় বোনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়।

এস এম ফরহাদ বলেন, “সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”

এর আগে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ এনে এক বিধবা নারী জিসান আহম্মেদ প্রধানকে প্রধান আসামি করে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানান, দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে জিসান আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

Link copied!