প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
রাঙামাটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত ২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধসের ঘটনায় আজ পূর্ণ হলো নয় বছর। দীর্ঘ এই সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং পাহাড় ধসের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে ফিরছে জেলার বাসিন্দাদের।
২০১৭ সালের ১৩ জুন ভোররাতে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি, ভেদভেদী, রাঙাপানিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্যোগে শতাধিক ঘরবাড়ি মাটিচাপা পড়ে এবং মুহূর্তেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জন প্রাণ হারান। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে আরও পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হন।
পাহাড় ধসের কারণে কয়েকদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
নয় বছর পরও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সেই দিনের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রতি বছর ১৩ জুন এলেই ফিরে আসে স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতি। অনেক পরিবার এখনও তাদের প্রিয়জন হারানোর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
ভয়াবহ ওই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। পুনর্বাসনের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক কারণে এখনও বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসবাস করছেন। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি বর্ষা মৌসুমেও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানিয়ে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাবে অনেকেই নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। তারা মনে করেন, কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে।
২০১৭ সালের সেই মর্মান্তিক পাহাড় ধসের নবম বার্ষিকীতে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে রাঙামাটিবাসী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন জেলার সচেতন নাগরিকরা।
