খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্পিতা
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
রবিবার ১৪, জুন ২০২৬ -- : -- --
খুবিতে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর সাহিত্যকর্ম সেমিনার অনুষ্ঠিত। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিন ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে ‘মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর সাহিত্যকর্ম, মনন ও মনীষা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারপাস রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে বক্তারা প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রগতিশীল সমাজ চিন্তার নানা দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরান কামাল। তিনি যৌথ এ আয়োজনের উদ্দেশ্য ও একাডেমিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ইমরুল ইউসুফ। তিনি বলেন, “গুণী ব্যক্তিদের স্মরণ করার উদ্দেশ্য হলো তাঁদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের উত্থাপিত আজও প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলো নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করা। মনীষীদের জীবন ও কর্ম বর্তমান সমাজকে অনুপ্রাণিত ও পথনির্দেশনা দেয়।”
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক বিপ্লব রায় ও প্রভাষক নাজমুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সহযোগী অধ্যাপক বিপ্লব রায় বলেন, “মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর প্রবন্ধে মুসলিম সমাজের সংকট ও উত্তরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মুসলিম সমাজের অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরে জ্ঞানচর্চা ও প্রগতিশীল চিন্তার মাধ্যমে উত্তরণের পথ নির্দেশ করেছেন।”
অপর প্রাবন্ধিক প্রভাষক নাজমুল ইসলাম তাঁর প্রবন্ধে বলেন, “মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।”
প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক আবুল ফজল। তিনি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর সাহিত্যকর্মের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা উপর বিশ্লেষণধর্মী সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শাকিলা আলম।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. দুলাল হোসেন। আলোচক ও সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন। তিনি প্রবন্ধগুলোর কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা ডিসিপ্লিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।