শনিবার ২৩, মে ২০২৬

শনিবার ২৩, মে ২০২৬ -- : -- --

হাবিপ্রবির হল সংঘর্ষে ৭ শিক্ষার্থীর নামে মামলা, অজ্ঞাত আসামি শতাধিক

হাবিপ্রবি থেকে ডালিম চন্দ্র রায়

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

প্রতীকী ছবি।

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)- এ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) শহীদ নুর হোসেন হল ও শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেনকে ১ নম্বর, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসরিফ ইসলাম প্রান্তিককে ২ নম্বর, এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে ৩ নম্বর, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের ২০ ব্যাচের আসিফ হোসেন কাফিকে ৪ নম্বর, গণিত বিভাগের ২১ ব্যাচের মো. সোহেল রানাকে ৫ নম্বর, ইকোনমিকস বিভাগের ২২ ব্যাচের শাকির মাহমুদকে ৬ নম্বর এবং মো. সামিউল ইসলাম শামসকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার আড়ালে সংঘবদ্ধ হয়ে হল ও কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে বিভিন্ন সময় মহড়া দিয়ে আসছিলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মে রাতে ৭ নম্বর আসামিসহ কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে ২১ মে দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ নুর হোসেন হলে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা হাসুয়া, সামুরাই, ডেগার, চাপাতি, চাকু, ছোরা, লোহার রড, লোহার পাইপ, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। তারা হলের শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া এবং কথা না শুনলে হত্যা করার হুমকি দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।

সংঘর্ষে মাহাবুব আলম, সাজ্জাদ হোসেন ও আলফিমানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নামাজঘর, আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলামকে হামলা করে অভিযুক্তরা। এ সময় তাঁকে কিলঘুষি মারার পাশাপাশি সামুরাই, লোহার রড, অ্যাঙ্গেল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর নাকে গুরুতর জখম হয়। একই ঘটনায় এহেসানুল কবীর অর্ণব নামের একজনের ডান চোখের ভ্রুতে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন আসিফ হোসেন কাফি, সোহেল রানা, শাকির মাহমুদ ও সামিউল ইসলাম শামস। তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করার জায়গা। পড়তে এসে কেউ রাষ্ট্রের সম্পত্তি নষ্ট করবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করবে, অন্যদের হুমকি দিবে ও ভয় দেখাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়গুলো মেনে নিবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মানে বদ্ধপরিকর।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্ট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় শহীদ আবরার ফাহাদ হলের ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

Link copied!