প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
কুমিল্লায় একাধিক মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও পলাতক আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র এবং তাঁর পরিবার।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪)–এ নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না করা এবং সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি বলে দাবি তাঁর।
শুভ্র জানান, পরোয়ানা জারির পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, অপহরণের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সম্মানহানি এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অস্ত্র নিয়ে হামলা, বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে ভয় দেখানো, গোপন ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা এবং যানবাহন ব্যবহার করে নজরদারির মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এসব ঘটনায় তাঁর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন শুভ্র।
এদিকে, দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)-এর আসামিরাও এখনো পলাতক এবং কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। দুটি মামলাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হওয়ায় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি সি আর মামলা নং-৬১৫/২৬ (তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬) আমলে নেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৬৫, ৪২০, ৫১১, ৫০০, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আইজিপির অভিযোগ সেল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার বিষয়টি গ্রহণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদ আনোয়ার জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে তারা বাদীর বাসায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তবে বাদীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তিনি মনে করেন, আসামিরা যে কোনো সময় বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। তাই দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে পুরো অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
