জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
রঙিন আবহে শিল্পের জয়গান গেয়ে পর্দা উঠল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বহুল প্রতীক্ষিত ‘১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব ২০২৬’-এর। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পুরানো কলা ভবন’ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশে এই নাট্যযজ্ঞের সূচনা হয়। ড্রামের তাল আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ঘেরা একটি শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করার মধ্য দিয়ে জানান দেয়-আগামী সাত দিন এই জনপদ মুখর থাকবে মঞ্চের আলো-আঁধারির গল্পে।
জিয়া হায়দার ল্যাবের সামনে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নাটক কেবল বিনোদন নয়, এটি সমাজের এক শাণিত দর্পণ। যে ভাষায় সমাজের অনাচার আর অবহেলিত মানুষের আর্তনাদ সবচেয়ে জোরালোভাবে পৌঁছানো যায়, তা হলো মঞ্চনাটক। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে বলেন, এই উৎসব কেবল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার অংশ নয়, বরং এটি তাদের আগামীর নাগরিক দায়িত্ব পালনের এক প্রশিক্ষণ। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণ তুর্কিরাই তাদের সৃজনশীল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার'র সঞ্চালনায় নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে শিক্ষার্থীদের এই নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নাট্যোৎসবের মূল আকর্ষণ হলো বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে, তাদেরই মেধা ও শ্রমে নির্দেশিত এবং পরিচালিত মোট ১৪টি নাটক মঞ্চস্থ হবে এই সাত দিনে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা এবং রাত ৮:৩০ মিনিটে দুটি করে প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শীতের এই সন্ধ্যায় শিল্পের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি নাটকে ফুটে উঠবে গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সমকালীন জীবনের নানা সংকট। তারুণ্যের এই পদভারে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত নাট্যশালা।