প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র জারি, ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন করার কথা রয়েছে।
তবে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা, ডোপ টেস্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে অসংগতি পাওয়া গেলে নিয়োগপত্র স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।
যেসব কারণে নিয়োগ স্থগিত বা বাতিল হতে পারে-
১. ভুয়া বা ভুল তথ্য দিলে:
আবেদনপত্রে দেওয়া কোনো তথ্য, শিক্ষাগত সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভুয়া, মিথ্যা বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল হবে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত আইনে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
২. বয়সসীমা না মিললে:
২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়লে নিয়োগ বাতিল হতে পারে।
৩. স্বাস্থ্য সনদ না থাকলে:
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ যাচাই করা হবে। সনদ না থাকলে নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখা হবে।
৪. ডোপ টেস্টে নেতিবাচক ফল হলে:
নিয়োগের আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের ফলও যাচাই করা হবে। রিপোর্ট নেতিবাচক হলে নিয়োগপত্র দেওয়া স্থগিত থাকবে।
৫. পুলিশ বা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য থাকলে:
পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য থাকলে তাঁর নিয়োগ আদেশ জারি করা হবে না।
৬. নির্ধারিত দিনে যোগদান না করলে:
নিয়োগপ্রাপ্তদের ১ অক্টোবর ২০২৬ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত দিনে যোগ না দিলে তাঁকে চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক হিসেবে গণ্য করে নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।
৭. নিয়োগপত্রের আগে অসংগতি ধরা পড়লে:
নিয়োগপত্র ইস্যুর আগে কোনো প্রার্থীর তথ্য, সনদ বা যোগ্যতায় অসংগতি পাওয়া গেলে নিয়োগপত্র স্থগিত রাখা হবে। এসব প্রার্থীর তালিকা ও কারণ ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
৮. শিক্ষানবিশকালে অসদাচরণ করলে:
চাকরির প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। এ সময়ে কর্মদক্ষতা বা আচরণ সন্তোষজনক না হলে কিংবা কোনো ধরনের অসদাচরণে জড়ালে চাকরি থেকে অপসারণ করা যেতে পারে।
৯. শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করলে:
কর্মক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে চাকরি থেকে অপসারণও হতে পারে।
১০. নির্ধারিত প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হলে:
যোগদানের পর অনধিক চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক ও মৌলিক প্রশিক্ষণ - ডিপিএড বা সিইনএড - গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ না নিলে বা প্রশিক্ষণে অকৃতকার্য হলে চাকরি স্থায়ী হবে না।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জারি করার নির্দেশনা রয়েছে। এরপর ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরে জানানো হবে।
