রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
বুধবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদপ্রার্থী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো: রাশেদুজ্জামান রাশেদের এর নামে মিথ্যা অভিযোগ এবং মানহানিকর প্রোপাগাণ্ডা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য পরাজয় নিশ্চিত জেনে অপর সভাপতি পদপ্রার্থী সামাউন সৈকত জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ইনবক্সে কুৎসা রটিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত সামাউন সৈকত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। নির্বাচনে নিজের পরাজয়ের আশঙ্কায় তিনি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হওয়া একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অপপ্রচারের বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সভাপতি পদপ্রার্থী মো: রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, "আমি যখন নতুন ক্যাম্পাসে আসি, তখন ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইয়েরা জোর করে আমাকে ডিপার্টমেন্ট ছাত্রলীগের ছোট একটি পদে বসিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে যখন ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসতা চালাতে শুরু করে, তখন আমি ১৭ জুলাই স্বেচ্ছায় জীবন বাজি রেখে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করি এবং সক্রিয় ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করি। এরপর একই মাসের ৩০ তারিখে ছাত্রলীগের নৃশংসতার বিরুদ্ধে আমার ফেসবুক প্রোফাইলে লাল ব্যাচ ধারণ করি। আমার এই সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সে সময় সাধুবাদ জানিয়েছিল।"
প্রতিবেদক এ বিষয়ে দেওয়া ভুক্তভোগীর ফেসবুক প্রোফাইল অনুসন্ধান করে "জুলাইযোদ্ধা" বক্তব্যের সত্যতা পেয়েয়েন।
তিনি আরও জানান, প্রতিপক্ষ প্রার্থী সামাউন সৈকত এই মীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে জুনিয়রদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই ধরনের মানহানিকর অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ণব সরকার বলেন, "রাশেদ ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাঁর সাহসী ভূমিকা আমাদের সবার জানা। অতীতে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া একটি পদকে পুঁজি করে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রোপাগাণ্ডা চালানো সম্পূর্ণ অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিক।"
১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফীদ ভুক্তভোগীর পক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে সময়ে শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে, তখন রাশেদ ভাই নিজের জীবন বাজি রেখে পদত্যাগ করেছিলেন এবং সক্রিয় ভাবে জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনিকি যে আজ এইসব মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে জুলাই আন্দোলনের সময় তার সাথেই রাশেদ ভাইয়ের আন্দোলনের ছবি রয়েছে। অথচ আজ নির্বাচনের মাঠে হেরে যাওয়ার ভয়ে একটি কুচক্রী মহল সেই পুরোনো ঘটনাকে বিকৃত করে তাঁর মানহানির চেষ্টা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।"
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে খুব শীঘ্রই বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।