প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম
গালিবা আনতারা সোয়ারা
বৈজ্ঞানিক ভাষায় ধূমপান হল তামাকজাত দ্রব্য। ধূমপান ব্যবহারকারীর কথার ভিত্তিতে ধূমপানকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এইভাবে যে, ধূমপান মানে আসক্তি, ভালো লাগার এক অনুভূতির নাম; যেটা খেলে মানুষ স্বল্পসময়ের জন্য সুখ অনুভব করে, শান্তি পায়, জীবনকে পরিপূর্ণ মনে করে তাকেই ধূমপান বলা হয়। সিগারেট এক ধরনের আসক্তি ও নেশা। সিগারেটে থাকে নিকোটিন নামক এক অদ্ভুত বিষ, যেটি তরল অবস্থায় খেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, নিকোটিন নাকি হিরোইন, কোকেন ইত্যাদির চেয়েও বেশি অ্যাকটিভ। তাহলে মানুষ কেন খায়? এটা কি অভ্যাস? শুধু কি হতাশা, না এটা নেশা?
ধূমপান শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে ক্ষতিকর। ধূমপান কেন খায়, এর প্রভাব আমরা সকলেই জানি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কারা বেশি খায়? শিক্ষিত মানুষরাই বেশি খায়, যারা ধূমপানের গায়ে লেখা বিজ্ঞাপনটি পড়তে পারে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এটি দেখেও আমরা না দেখার ভান করে প্রতিনিয়ত সেবন করি। ক্ষতিকর জেনেও আমরা কেন খাচ্ছি? আমাদের মস্তিষ্কে এত গবেষণামূলক তথ্য থাকার পরেও কেন যুবসমাজ খাচ্ছে?
তারা নিজেদেরকে আধুনিক বলছে, আধুনিক বলে পরিচিত হচ্ছে, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও কেন তারা খাচ্ছে এটাই কি আমাদের সভ্যতা? এটাই কি আধুনিক শিক্ষার ফল? আধুনিক শিক্ষা মানেই কি এই ধরনের নেশাজাতীয় জিনিস গ্রহণ করা? এগুলো খাওয়াকে কি সভ্য বলে মনে করছে তারা? এগুলো গ্রহণ করার জন্য নিজেকে সভ্য, শিক্ষিত দাবি করা কতটা যৌক্তিক বলে তারা মনে করে? এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধূমপানের অভ্যাস থাকলে হঠাৎ তা বন্ধ করার পরও যদি কোনো কারণে একবার ধূমপান করা হয়, তবে পুনরায় আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ, অনেকদিন ধূমপান থেকে বিরত থাকার পরও “একটা সিগারেট” পুরোনো অভ্যাসকে আবার সক্রিয় করে তুলতে পারে এবং ব্যক্তি ধীরে ধীরে আবার ধূমপানে ফিরে যেতে পারে।
তারা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা চিন্তা না করে স্বল্পমেয়াদি ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। অনায়াসে ধূমপান করে যাচ্ছে। তারা একবারেও নিজেদের কথা চিন্তা করছে না, সাথে দেশ, সমাজ, পরিবারের প্রিয়জনগুলোর কথাও চিন্তা করছে না। কিন্তু এখানেই কি শেষ? ধূমপান শুধু নিজের ক্ষতি করছে না, অন্যেরও ক্ষতি করছে। ধূমপান না করেও, কেবল ধোঁয়া নাকে গিয়েই মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এক হিসাবে, এক বছরে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৭ লক্ষ মানুষ মৃত্যুর শিকার হন। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে অন্যের ক্ষতি করছি, দায় কি নিচ্ছি? ধূমপান খাওয়া লোকদের চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার, কিন্তু দেবে কে?
সমাজ নিরুপায়।ভুক্তভোগী আমি, আপনি। দেশে আইন থাকলেও তা সংবিধানের মধ্যেই আটকে আছে। প্রচার, লিফলেট ইত্যাদি প্রচারমাধ্যম যেন ফটোকপির কাগজেই রয়ে গেছে। আসলে নিজে সচেতন না হলে অন্য কেউ কিছুই করতে পারবে না। কথায় আছে, নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আমাদের অসম্ভব রকম টান।
আসুন সচেতন হই, মাদক, ধূমপানসহ সকল নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকি। নেশা থেকে দূরে থাকি, নিজেকে এতটা স্বাধীন না ভাবি, নিজের কথা ও পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর কথা চিন্তা করি একই সামাজের অন্য মানুষের কথা ও ভাবি।
অন্যের ক্ষতি করছি, দায় কি নিচ্ছি?
লেখিকাঃ শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
