প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা-গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের এসব প্রকল্পে আবাসিক হল ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন, গবেষণাগার সম্প্রসারণসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পূর্বে আজ ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, গ্রন্থাগারিক, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকদের অংশগ্রহণে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাসমূহের উপর পর্যালোচনা সভা অনুুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণীত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাসমূহের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলাম।
সভায় জানানো হয়, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও স্থানিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও পরবর্তী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ প্রকল্পের ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই সভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও আবাসিক হলে আসন সংকট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগার নির্মাণ, আবাসিক হলে আসন সংকট নিরসন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ভবনের নকশা, প্রাক্কলন ও ভবনভিত্তিক বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, ন্যানোপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, চলতি বছর রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়ন ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউজিসির অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। হিট প্রকল্পের আওতায় ফ্যাবল্যাব প্রতিষ্ঠা, গ্রন্থাগার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগ ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরআইসি-আইসিটি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলছে।
সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ দৃশ্যমান হবে। নতুন ডিপিপিতে আবাসিক হল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই প্রকল্প প্রস্তাবনাসমূহের অনুমোদন, অর্থছাড় ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জীববিজ্ঞান স্কুলের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য ফিল্ড ল্যাবরেটরি তৈরি, সবিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, ইনোভেশন হাবের যথাযথ ব্যবহার, বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর চালুকরণ, একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানের রিভিশন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক কারিকুলাম সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, প্রস্তাবিত এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, গ্রন্থাগারিক, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে এমন বৃহৎ পরিসরের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়নের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।
