রবিবার ১৬, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ১৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নোবিপ্রবির নীরব রাতকে প্রাণবন্ত করছে দুই তরুণের ‘আলাপ’

..

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সজীব উদ্দিন

দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস ধীরে ধীরে নিরিবিলি হয়ে আসে, তখনও শান্তি নিকেতন এলাকায় জমে ওঠে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। এক কাপ গরম চা, কফি, গান, গল্প আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে রাতের ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত রাখছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা পদার্থ বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিভাগের ১৭ তম ব্যাচের ইয়াকুব ও ইকবাল।

তাদের উদ্যোগে পরিচালিত চা ও কফির স্টল ‘আলাপ’ এখন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত একটি আড্ডাস্থল।বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বন্ধু ইয়াকুব-ইকবাল। ক্যাম্পাসে মানসম্মত চা-কফির সংকট এবং শিক্ষার্থীদের অবসরে বসার সুন্দর জায়গার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তারা ‘আলাপ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

তরুণ উদ্যোক্তা ইয়াকুব আলী বলেন ,একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মানেই প্রাণোচ্ছলতা-আড্ডা আর বৈচিত্র্যের মিলনমেলা। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা নেমে আসত;চারপাশটা যেন হুট করেই কবরস্থানের মতো নিঝুম ও শুনশান হয়ে যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে চিরচেনা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ডাইভার্সিটি থাকার কথা, আমরা সেটা খুব মিস করছিলাম। ক্যাম্পাসের এই প্রাণহীন পরিবেশ আর স্থবিরতা ভাঙতেই আমাদের মাথায় ছোট একটা আইডিয়া আসে। সেই শূন্যতা দূর করে ক্যাম্পাসকে আবার প্রাণবন্ত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ-"আলাপ"! আমরা চেয়েছিলাম এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে, যে পরিবেশ সন্ধ্যার পরও ক্যাম্পাসকে জাগিয়ে রাখবে এবং আড্ডা, আলোচনা ও ডাইভার্সিটির সেই চিরচেনা আমেজটা ফিরিয়ে আনবে।

সন্ধ্যার পর থেকেই ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে আড্ডা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থান যখন নীরব হয়ে আসে, তখন ‘আলাপ’কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শান্তি নিকেতন এলাকায় তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।

শুধু ইয়াকুব ও ইকবাল নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কেউ জুস বিক্রি করছেন, কেউ খাবার, আবার কেউ নিজ এলাকার তৈরি পোশাক ও পণ্য নিয়ে বসছেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করছে।

‘আলাপ’-এর উদ্যোক্তা ইয়াকুব ও ইকবালের উদ্যোগকে অনেক শিক্ষার্থী ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে কিছু করার চেষ্টা তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

শিক্ষার্থীদের কাছে ‘আলাপ’ এখন শুধু চা-কফির দোকান নয়; এটি হয়ে উঠেছে রাতের ক্যাম্পাসের একটি ছোট্ট মিলনস্থল। ব্যস্ত দিনের শেষে যেখানে এক কাপ চায়ের সঙ্গে জমে ওঠে গল্প, বন্ধুত্ব আর নানা পরিকল্পনা।

তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও শিক্ষার্থী-বান্ধব সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিভু নিভু রাতের ক্যাম্পাসে আলো-আড্ডার এই ছোট্ট আয়োজন তাই শুধু ‘আলাপ’ নয়-এ যেন নোবিপ্রবির তরুণদের স্বপ্ন, উদ্যোগ ও আত্মনির্ভরতার গল্প।

Link copied!