বৃহস্পতিবার ১০, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে ব্র্যাকে কনক্লেভ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে একাডেমিক সততা, গবেষণা নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টেগ্রিটি কনক্লেভ ২০২৬।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত কনক্লেভটির শিরোনাম ছিল “এথিকস, কোয়ালিটি অ্যান্ড রেসপন্সিবল একাডেমিক প্র্যাকটিস ইন দ্য এআই এরা”। এতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, গবেষক, গ্রন্থাগারিক, সাংবাদিক ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে একাডেমিক সততা, গবেষণা নৈতিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্রকাশনা নৈতিকতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং উচ্চশিক্ষায় মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষকদের পদোন্নতি ব্যবস্থার সংস্কার, নৈতিকতা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হুমকি নয়, বরং সম্ভাবনা হিসেবে দেখে। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাডেমিক মান, মৌলিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এএফএম ইউসুফ হায়দার বলেন, এআই কখনোই মানবিক বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও গবেষণার বিকল্প হতে পারে না। বরং এটিকে সহায়ক ও শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে টার্নইটিনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক চৈতালী মৈত্র এআই-এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে জার্নালে নিবন্ধ জমা দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে এআই-নির্ভর লেখা জমা দেওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কনক্লেভে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিজের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন এবং ওপেন ফোরাম ফর এআই-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সাঈদ চৌধুরী। তিনি শিক্ষা ও গবেষণায় ওপেন-সোর্সভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

এছাড়া বিভিন্ন অধিবেশনে ইউল্যাব, আইইউবি, বুয়েট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদরা একাডেমিক ও গবেষণা সততা নিশ্চিত করতে নীতিমালা, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনব্যাপী কনক্লেভের সমাপনীতে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে একাডেমিক ও গবেষণা সততা নিশ্চিত করতে একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রণয়নের জন্য কয়েকটি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Link copied!