বৃহস্পতিবার ১০, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে সিট নিয়ে দ্বন্দ্ব,সমঝোতায় মীমাংসা

কুবি থেকে আহসান হাবিব রাফি

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ফাইল ফটো

কুবিতে বাসের সিটে বসা নিয়ে জুনিয়রকে থাপ্পড়ের অভিযোগ, প্রক্টর অফিসে সমঝোতা

‎কুবি প্রতিনিধি:আহসান হাবিব রাফি 

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে উভয় শিক্ষার্থীর বিভাগের ও হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে ক্যাম্পাস গেইটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমঝোতায় মীমাংসা হয়েছে। 

‎এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা হলেন; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরেফিন মেহেদী এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর।

‎প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে এবং সরেজমিন পর্যবেক্ষণে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে আরেফিন মেহেদী ও আবু বকরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাস থেকে নামার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবু বকরকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেফিন মেহেদীর বিরুদ্ধে। কিন্তু আরেফিন মেহেদী থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন৷ পরে উভয় শিক্ষার্থীর বিভাগ এবং হলের শিক্ষার্থীরা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে যান। এ সময় আবু বকরও তার কাছে ক্ষমা চেয়ে আরেফিন মেহেদীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে আবু বকর বিজয়-২৪ হলে চলে যান বলে জানা গেছে। ঘটনার পর উভয় শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতায় মীমাংসা করা হয়। 

‎আবু বকর বলেন, “আমি বাসের জানালার পাশে বসলে আরেফিন ভাই আমার পাশে বসেন। তার বসতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি আমাকে একটু সরে বসতে বলেন। আমি সরে বসে তাকে জায়গা করে দিই। বাস থেকে নামার পর তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার কান বরাবর চড় দেন। পরে তিনি আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে আমিও ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাই।”

‎আরেফিন মেহেদী বলেন, “বাসে ওঠার পর সিট ফাঁকা থাকায় আমি আবু বকরের পাশে বসি। তবে আবু বকর অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে বসায় আমার বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ সময় তাকে একটু সরে বসতে বললেও তিনি সরে বসেননি। পরে বাস থেকে নামার সময় আবু বকর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর বাস থেকে নেমে আমি তার পরিচয় জানতে চাই এবং তাকে ধাক্কা দিই। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।”

‎সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আবু বকর ছিদ্দিক মাসুম বলেন, “বাসে বসাকে কেন্দ্র করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরোধ তৈরি হয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করেছি। উভয় পক্ষই সুষ্ঠুভাবে বিষয়টির সমাধানে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না করার কথাও তারা জানিয়েছেন।”

Link copied!