প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
গবেষণা, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ডুয়েট) দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ডুয়েটের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ব দরবারে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।”
দিনটির কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ওড়ানো, পায়রা অবমুক্তকরণ এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য র্যালি নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণায় উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের ‘একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৮০ সালে ‘কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালে ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা’ নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।
ডুয়েটের নামকরণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপাচার্য প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টার কথাও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, প্রতি বছর ডুয়েট থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো থেকে শুরু করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে বিশ্ব যখন পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ন্যানোটেকনোলজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, “এই বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই ডুয়েটের প্রধান অগ্রাধিকার। ২৩তম ডুয়েট ডে-তে আমরা নতুন করে সেই অঙ্গীকারই ব্যক্ত করছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ডুয়েট শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারীদের স্বপ্নের ঠিকানা। মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে এখান থেকে দক্ষ প্রকৌশলী প্রজন্ম গড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই ডুয়েটের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ডুয়েট অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে সাজসজ্জার পাশাপাশি নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
