তারেক পাশার সৌরভ,বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
বৃহস্পতিবার ০৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র ও তৃতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে ‘পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র ও তৃতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ করা কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক অঙ্গীকার। মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তার পক্ষে সোচ্চার থাকা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
দেশে ইভটিজিং ও অনলাইন সাইবার হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, কেবল আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না; এর পাশাপাশি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, যেখানে কোনো নারী, শিক্ষার্থী বা কর্মী ভয়ের মধ্যে থাকবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেরোবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট তশিবা কাশেম এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উপদেষ্টা মুবারক মোহাম্মদ।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।