বৃহস্পতিবার ০৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বর্ণাঢ্য আয়োজনে রুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্‌যাপন

মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উদ্‌যাপিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্ত, বৃক্ষরোপণ, গবেষণা ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় তিনটি পায়রা অবমুক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনসহ অতিথিরা।

এরপর শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গবেষণা পোস্টার ও স্টার্টআপ মডিউল প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন অতিথিরা। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরেন। একই সময়ে রক্তদাতা সংগঠন ‘নিরব’-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ ও চক্ষু পরীক্ষা করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় রুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে রুয়েটের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “১৯৬৪ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরুর পর রুয়েট শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আমরা আশাবাদী। গবেষণার লক্ষ্য শুধু পাবলিকেশন বা সাইটেশন নয়; বাস্তব সমস্যার সমাধান ও মানুষের কল্যাণে তা হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবনকে বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা ইউজিসির অন্যতম দায়িত্ব। গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ‘রিসার্চ রেভলিউশন’-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মেধা ও প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু সার্টিফিকেট নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, “রুয়েট ৬২ বছরের গৌরবময় পথচলায় পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় রুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে অংশ নেওয়া সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া, যাঁর সময়ে রুয়েট পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।”

তিনি বলেন, সরকার গবেষণা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী বছরে তা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছি। রুয়েটসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনে ইউজিসি পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা, শহীদ ও প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আগামীকাল বুধবার এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শেষ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর রুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে আসছে। এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘ পথচলার পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

Link copied!