প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও এক বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাতজনকে ১০ হাজার টাকা করে, তিনজনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং একজনকে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলে দ্বিতীয় সেমিস্টারের (সেশন ২০২৪-২০২৫) কয়েকজন শিক্ষার্থী কর্তৃক নবাগত প্রথম সেমিস্টারের (সেশন ২০২৫-২০২৬) শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে র্যাগিংয়ে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ৪৩তম সভার আলোচ্যসূচি-৫-এর আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ শাস্তি দেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইএসএডিএম অনুষদের প্রিয়ম কুমার সাহা ও কৃষি অনুষদের মো. আসিফ জাহান। র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব প্রদান, সংঘটিত করা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের তৌফিক হোসেন আলিফ, মনুয়িম তাজওয়ার মাহি, সিএসই অনুষদের মো. আশরাফুল হক চৌধুরী, মো. সাকিব হোসেন মজুমদার, মো. মুমিনুল ইসলাম (সাকিব), উৎস বর্মন ও মো. নাহিমকে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমেদ লিমন ও মো. রাজিব মিয়াকে অংশগ্রহণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আর নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের লক্ষন চন্দ্র রায়কে র্যাগিংয়ে অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রভোস্ট কার্যালয়ে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জরিমানার পাশাপাশি শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রভোস্ট কার্যালয়ে মুচলেকা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অমান্য করলে ১ থেকে ৩ সেমিস্টার পর্যন্ত বহিষ্কার করা হতে পারে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।
এ ছাড়া হল থেকে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী শাস্তির মেয়াদে কোনোভাবেই ক্যাম্পাস বা হলে অবস্থান করতে পারবেন না। অফিস আদেশ জারির ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে শাস্তিপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ডের টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় একসঙ্গে ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এনেছে।
