প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন উপেক্ষা করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করায় ১৭ জন শিক্ষকের বেতন বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি। কমিশন থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত এসব পদসমূহের বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের সময়ে এসব পদ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইউজিসি থেকে ছাড়কৃত পদ পরিবর্তন করে অন্য বিভাগে এবং উচ্চ পদের বিপরীতে নিম্ন পদে ১৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে এসব নিয়োগকে কমিশনের অনুমোদন ব্যতিরেকে এক বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত পদের বিপরীতে অন্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ ও উচ্চতর পদের বিপরীতে নিম্নতর পদে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করাকে অনুমোদনের শর্তাবলীর ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত নথিতে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কমিশন থেকে ছাড়কৃত পদসমূহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বিভাগ ও পদসমূহ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক থেকে ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক থেকে আইন বিভাগে প্রভাষক, আইসিই বিভাগের প্রভাষক থেকে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক, ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক থেকে বিএমবি বিভাগে প্রভাষক, শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক থেকে এমআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, আইআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক থেকে আইআইএস বিভাগের প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক থেকে রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক পদ থেকে আইআইএস বিভাগের প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক থেকে প্রাণীবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক, টিএইচএম বিভাগের প্রভাষক থেকে পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে ফিমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদ থেকে সিএসটিই বিভাগের প্রভাষক, এফটিএনএস বিভাগের প্রভাষক থেকে আইন বিভাগের প্রভাষক।
কমিশনের সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত পদসমূহের বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখা এবং এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্যও সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে উল্লেখিত নিয়োগসমূহ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় উচ্চতর পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
নতুন হাতে আসা ইউজিসির ‘সংলগ্নী-০৩’ নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪-৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল নোবিপ্রবির ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট কার্য সম্পাদন করে। উক্ত অ্যাসেসমেন্টকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় মোট ২৫টি পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে প্রতি অর্থবছরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার অনুরোধ এবং একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশানুরূপ কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণসমূহের নিষ্পত্তিকল্পে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি মর্মে উল্লেখ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিশন থেকে এসব শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখার বিষয়ে বলা হলেও মানবিক কারণ দেখিয়ে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সকল বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, বিগত সময়ে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিগত সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তদন্ত কমিটি তা উদঘাটন করবে।
ইউজিসি কর্তৃক ১৭ জন শিক্ষকের বেতন বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিভাগ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগ শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই হয়নি; এর আগেও এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই এসব নিয়োগ দিয়েছেন। এটি প্রশাসনে থাকা সংশ্লিষ্টদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ইউজিসি এসব শিক্ষকের বেতন ছাড় না করলেও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের বেতন চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
