প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকে ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ প্রদর্শিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের (এমসিসি) উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবযুগ মিলনায়তনে চলচ্চিত্রটির দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে চলচ্চিত্রটির আরও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘বনলতা সেন’ চলচ্চিত্রে কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনদর্শন এবং তাঁর সৃষ্টির অন্যতম রহস্যময় চরিত্র বনলতা সেনকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সোহেল মণ্ডল ও গাজী রাকায়েত।
আয়োজন সম্পর্কে এমসিসির সভাপতি অন্তর খান বলেন, ‘সবসময় আমাদের ক্লাব চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি সুস্থ ধারার বিনোদন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে। তারই ধারাবাহিকতায় দুই দিনব্যাপী বনলতা সেন চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইনজামুল হক অভি ফকির বলেন, ‘পড়াশোনার বাইরেও মাঝে মাঝে আমাদের বিনোদনের প্রয়োজন হয়। আর সেই বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম চলচ্চিত্র। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা, বিনোদন ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ধারাকে এমসিসি আরও এগিয়ে নেবে।’
চলচ্চিত্রটির অভিনেতা খায়রুল বাসার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে না থাকলে প্রদর্শনীতে অবশ্যই উপস্থিত থাকতাম। যারা চলচ্চিত্রটি দেখতে এসেছেন, তাদের জন্য শুভকামনা।’
প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটি দেখে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাইয়ানুল করিম বলেন, ‘চমৎকার একটি চলচ্চিত্র বনলতা সেন। চলচ্চিত্রটির গল্প আমাকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। ডায়লগ ডেলিভারি, অভিনয় ও লোকেশন নির্বাচন—সবকিছুই এক কথায় দারুণ।’
দর্শক স্বপ্না আক্তার বলেন, “বনলতা সেন চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বনলতা সেন চরিত্রের উপস্থাপন, অভিনয় ও গল্প বলার ধরন আমার কাছে ভালো লেগেছে। পুরো চলচ্চিত্রটি দেখার সময় মনে হয়েছে, জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য ও দর্শনকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছি।”
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশীয় চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁদের আগ্রহও বাড়বে।
