মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
মঙ্গলবার ২৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
প্রতীকী ছবি।
রাজশাহীর রানীবাজারে তোষক বিক্রেতার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুবিনের সঙ্গে রানীবাজারের এক তোষক বিক্রেতার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীরা তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে মুবিন ক্যাম্পাসে ফিরে বিষয়টি তাঁর সহপাঠী ও অগ্রজদের জানান। ঘটনার সমাধানের জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী রানীবাজারে ওই দোকানে যান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় দোকানদার ও কর্মচারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বাঁশ, লাঠি ও চেয়ারসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জাহান ও মাশফি এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. যুবায়ের হাসান আহত হন। আহতদের মধ্যে যুবায়ের হাসান গুরুতর আহত হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্যাম্পাসের এক ছোট ভাই দোকানের কর্মচারীর দ্বারা হেনস্তার শিকার হলে বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা দোকানদারের সঙ্গে কথা বলতে যাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানদার ও আশপাশের দোকানের কর্মচারীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমিসহ কয়েকজন আহত হই। আমরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক জেড এইচ এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ব্যবসায়ীদের দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যদি দুই দিনের মধ্যে আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন, তাহলে কোনো মামলা করা হবে না। আর ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তী সময়ে মামলা করা হতে পারে।”
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।