সোমবার ১৭, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১৭, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

ডুয়েট ক্যান্টিন পরিচালনায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে চায় শিক্ষার্থীরা

রাকিব হাসান,ডুয়েট থেকে

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ডুয়েটের কেন্দ্রীয় ক্যান্টিন নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কেন্দ্রীয় ক্যান্টিনের খাবারের মান, মূল্য ও সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে মতবিনিময় সভা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিনের খাবারের মান, মূল্য ও সেবা নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ জানিয়েও প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নোটিশের মাধ্যমে ক্যান্টিন পরিচালককে বরখাস্ত করে।

এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বাইরের খাবারের তুলনায় দাম কম হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যান্টিনে খাবার গ্রহণ করেন। তবে দামের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এটি আইনের অধীনে চলে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেই কাউকে এনে দায়িত্ব দিয়ে দিতে পারে না। ক্যান্টিনের পরিচালনা পেতে হলে যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে নিলামে অংশগ্রহণ করতে হবে। সেখানে যারা বেশি বিড প্রোভাইড করবে, তারাই ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন।”

এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইন সংশোধন করে নতুন বিধান প্রণয়ন করা যেতে পারে।

এর জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোস্তাকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিবর্তন করে পরবর্তীতে যদি সেই তাদের সার্ভিসও ফলপ্রসূ না হয়, তখন এই বিদ্যমান আইনের সুবিধা নিতে চাইবে অনেক প্রতিষ্ঠান।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা তোমাদের দাবিকে সাদরে গ্রহণ করছি। এবং একইসাথে আমরা তোমাদের বলব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান আইনের মধ্য দিয়ে তোমরা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে আসতে বলো।”

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রচলিত নিলামভিত্তিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সভায় আলোচনা হয়। পরে বিদ্যমান আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভা শেষ হয়।

Link copied!