শুক্রবার ২১, আগস্ট ২০২৬

শুক্রবার ২১, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রুয়েটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবেশ সিম্পোজিয়াম

মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক গবেষণা সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সিম্পোজিয়ামে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টায় রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।

এ সময় ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের (আইইইএস) পরিচালক ও সিম্পোজিয়ামের অর্গানাইজিং চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউ. এইচ. জোয়ার্দারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আইইইএস ও রুয়েট প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সিম্পোজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গবেষকেরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গবেষণার বাজেট সীমিত। তাই বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এমন গবেষণা পরিচালনা করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর, টেকসই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকারী হবে।”

তিনি বলেন, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির প্রয়োজন আরও বাড়বে। তবে প্রচলিত জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই আগামীর গবেষণায় জ্বালানি ও পরিবেশকে সমন্বিত করে উদ্ভাবনমুখী কাজের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উন্নয়ন, সহজলভ্যতা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সবুজ জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। জ্বালানি খাতে গবেষণার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এবং নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি জানান, এ বছর সিম্পোজিয়ামের জন্য মোট ১৩০টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। পর্যালোচনার পর ৬১টি গবেষণাপত্র নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি গবেষণাপত্র সিম্পোজিয়ামে উপস্থাপন করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে তিনটি পৃথক কীনোট সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসের সহযোগী অধ্যাপক ড. নায়েফ এ. এ. কাসেম, চীনের হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, শেনজেনের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম এবং যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রিডার ইন ফ্লুইডস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস ড. এলদাদ আভিটাল।

কীনোট উপস্থাপনায় বৈশ্বিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে প্রচলিত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে কার্বন নিঃসরণের বর্তমান পরিস্থিতি, নেট-জিরো লক্ষ্য, পরিচ্ছন্ন প্রপালশন প্রযুক্তি, বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে আইইইএসের সহযোগী পরিচালক ও সিম্পোজিয়াম সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মাহাদী হাসান মাসুদ বলেন, “বর্তমান সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। এই আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, এ আয়োজন গবেষণা, মতবিনিময় এবং যৌথ একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামে আটটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা আশা করছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষকদের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

Link copied!