বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬

বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

শিক্ষার্থীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

তানহা তাবাসসুম পালিয়া,নোয়াখালী

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ শোয়াইব

নোয়াখালী সরকারি কলেজে (নোসক) 'জুলাই বিপ্লব' ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করার জেরে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর, রক্তাক্ত করা এবং টাকা-পয়সা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ শোয়াইব (২১)।

সে কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা খাজা মঈন উদ্দিন (৫৫) বাদি হয়ে গত ১৭ আগষ্ট নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানায় ৪ জনকে আসামি করে আরো অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ১নং আসামি শাহরিয়ার ইসলাম নাদিমকে আটক করেছে পুলিশ।  

ভুক্তভোগী ও মামাল সূত্রে জানা গেছে, শোয়াইব বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণ করে বিভিন্ন লেখালেখি করে আসছিলেন। এবং ৫ আগষ্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৩ আগষ্ট-২০২৬, বৃহস্পতিবার বলা ১২:৪৫ মিনিটের সময় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মাশরাফি চৌধুরী ও নুরুল আফসার প্রিতম এবং স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইসলাম নাদিম ও শামীম ইসলাম যৌথভাবে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে তাকে বের করে গেটের সামনে এনে টেনেহিঁচড়ে একটি অটোরিক্সাতে তুলে নিয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার মিয়ারপুল এলাকায় নিয়ে যায়।

এসময় তারা ভুক্তভোগীকে হকিস্টিক, লাঠি ও হাত দিয়ে মারধর, গালিগালাজ করে এবং ১০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এবং তার মোবাইল ও মানিব্যাগে থাকা সাড়ে ৪হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মারধরে তার নাক থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ  হলে তারা মোবাইল দিয়ে দেয় এবং ২নং আসামি মাশরাফি চৌধুরী তার পিঠে পাইপ গ্যান ঠেকিয়ে হুমকি দেয় এঘটনা কাউকে জানালে বা মামলা করলে একদম প্রাণে মেরে ফেলবে। 

এই বিষয়ে জানতে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলামকে কল দেওয়া হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, "শিক্ষার্থীকে মারধর ও টাকা লুটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এই ঘটনার পর নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে হামলাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!