বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬

বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে চেক ডিজঅনার মামলায় পাবিপ্রবি কর্মকর্তা আটক

সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সোহাগ হোসেন

চেক ডিজঅনার মামলায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কর্মরত সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সোহাগ হোসেনকে আটক করেছে পাবনা সদর থানা পুলিশ। গত ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতের সি.আর. মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ওই দিনই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মো. সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি হাতিয়ে নিতেন টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আফজাল হোসেনের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা, শহিদুল ইসলামের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪ লাখ টাকা এবং উজ্জ্বল মাস্টারের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আরও ৫ লাখ টাকা নেওয়া সহ আরো কয়েকজনের থেকে টাকা  নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে এসব টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার সময় কাউকে ব্ল্যাংক চেক এবং কাউকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেওয়া হয়েছিল বলে তারা জানান।

একজন ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় একটি ব্ল্যাংক চেক দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে গড়িমসি করেন। পরে এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে বসলে তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে টাকা পরিশোধের কথা দেন। প্রায় চার বছর ধরে তিনি আমাকে ঘুরাচ্ছেন। শুধু আমার কাছ থেকেই নয়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আরও অনেকের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন। আমরা ও ভবিষ্যতে আইনের সহায়তা নিবো।”

আরেকজন ভুক্তভোগী আফজাল সরদার বলেন, আজকে শুনেছি একটা মামলায় সোহাগ গ্রেফতার হয়েছে। আমাকে সে টাকা দিবে দিবে বলে ওনেক বছর হলো টাকা দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় অফিস রুমে এসে কয়েকদিন খোঁজ  করে পাইনি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “সোহাগ অনেক আগে থেকেই চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। অনলাইন জুয়ার সাথে সে জড়িত থাকতে পারে। বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে পাওনাদাররা এসে তাকে খোঁজ করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ডিউটি অফিসার মো. ইজাজ বলেন, “কোর্ট বা আদালতের সি.আর. মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

Link copied!